৬ টি রোগের কারণ ধূমপান !

গবেষণায় দেখা গেছে, অধূমপায়ীদের চেয়ে ধূমপায়ীদের ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা দশগুণ এবং মুখ, গলা, অন্ননালী, অগ্নাশয়, কিডনী, মুত্রথলি, জরায়ু মুখ ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কয়েক গুন বেশি। এছাড়াও ধূমপান করলে রক্তে মোট কোলস্টেরল ও খারাপ কোলস্টেরল (এলডিএল)-এর মাত্রা বেড়ে যায় এবং কমে যায় ভাল কোলস্টেরল এইচডিএলের মাত্রা। এতে করে রক্তনালীতে চর্বি জমে গিয়ে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন, পায়ে গ্যাংগ্রিন।


৬ টি রোগের কারণ ধূমপান !

মারাত্নক ৬ টি রোগের কারণ ধূমপান-

  1. ক্যান্সার
  2. হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপ
  3. শ্বাসতন্ত্রের রোগ
  4. হাড়ের ক্ষয়
  5. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হওয়া
  6. নারীস্বাস্থ্যে ঝুঁকি

১। ক্যান্সার

সিগারেটে নিকোটিন ছাড়াও থাকে বিষাক্ত আরও নানা ধরণের উপাদান। এর ফলে ফুসফুস তো বটেই শ্বাসনালী, খাদ্যনালী, প্যানক্রিয়াস, কিডনি, লিভার, মুত্রথলী এবং কোলনও ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। এর মানে হলো ধূমপানের কারণে আক্রান্ত হতে পারে গোটা শরীরই।

২। হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপ

ধূমপানের সঙ্গে হৃদরোগের রয়েছে সরাসরি সংযোগ। ধূমপানের কারণে রক্তের ধমনীতে প্লেক নামক একধরণের চর্বি জাতীয় পর্দা জমার প্রবণতা দেখা যায়। এই রোগের নাম অ্যাথেরোসক্লেরোসিস। এছাড়াও ধূমপানের কারণেই বেড়ে যায় করোনারি হার্ট ডিজিজের আশঙ্কা। এই রোগে রক্ত জমাট বেধে ধমনীর দেয়ালে লেগে থাকে, যে কারণে ঘটতে পারে প্রাণঘাতি হার্ট অ্যাটাক।

৩। শ্বাসতন্ত্রের রোগ

ফুসফুস তো বটেই, ধূমপনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো শ্বাসতন্ত্রই। এতেই দেয়া দেয় শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যাথা, সর্দি-কাশির মতো দৈনন্দিন রোগ। ধূমপানের কারণে হতে পারে এমফিসেমা, যে রোগের কারণে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা আংশিকভাবে নষ্টই হয়ে যায়।

৪। হাড়ের ক্ষয়

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে ধূমপানের সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ক্ষয়ও বৃদ্ধি পেতে থাকে। এছাড়াও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বাতের ব্যাথায় ভোগার প্রবণতাও দেখা দেয়।

৫। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হওয়া

যারা ধীর্ঘদিন ধরে ধূমপানে আসক্ত, তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিনে দিনে হ্রাস পায়। একারণেই তারা শ্বাসতন্ত্রের ইনফেকশন, সাইনানাইটিস এবং টনসিলের সমস্যায় বেশি ভোগেন। জ্বর হলে দ্রুত সারতে চায় না, ঘা হলে শুকাতে দেরি হয়। অসাবধানী হলে এইসব ছোট ছোট সমস্যেই দেখা দিতে পারে মারাত্মক আকারে। হয়ে যেতে পারে বড় কোনো রোগও।

৬।নারীস্বাস্থ্যে ঝুঁকি

নারীরা ধূমপান করলে আক্রান্ত হতে পারেন স্তন এবং গর্ভাশয়ের ক্যান্সারে। এছাড়াও বিড়ি-সিগারেটে থাকা নিকোটিন ও কার্বন মনোক্সাইডের কারণে বেড়ে যায় মুখের লোম। এছাড়া গর্ভাবস্থায় ধূমপান করলে গর্ভপাত সহ সন্তানের বিকালঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায় বহুগুণ।

এছাড়াও কোন কারণ ছাড়াই মারা যেতে পারে শিশু। আপনি হয়তবা ধূমপান করেন না। ভাবতে পারেন আপনি এ স্বাস্থ্য সমস্যা মুক্ত। আপনার আশেপাশের ধূমপায়ীদের ধোঁয়া আপনার ক্ষতি করে চলেছে আপনার অগোচরে। একে বলে সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোকিং।

গবেষণায় দেখা গেছে ফুসফুসের ক্যান্সারের ১০ ভাগ রোগী কখনই ধূমপান করেন নি। এরা আক্রান্ত হয়েছেন সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোকিং থেকে। এছাড়াও এদের ক্ষেত্রে ক্যান্সারের ঝুঁকি ২০-৩০ ভাগ, হৃদরোগের ঝুঁকি ২০-৩০ ভাগ। তাই আপনার আশেপাশের ধূমপায়ী হতে সাবধান হোন।

Post a Comment

Previous Post Next Post